গুণগত মানের সাপেক্ষে বাজারে বিক্রি হওয়া গুঁড়ো দুধ আর তরল দুধের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না। আমাদের শরীরের অপরিহার্য nutrients এর বেশ কিছু গুঁড়ো দুধ এবং তরল দুধ উভয় থেকেই আমরা পেয়ে থাকি, শুধুমাত্র পরিমাণের তারতম্য ঘটে। যেমন, আমাদের দৈনিক চাহিদার ৩০-৪০% ক্যালসিয়াম যোগান দেয় দুধ, সে গুঁড়ো দুধ হোক বা তরল।
- পাস্তুরাইজড দুধকে ডিহাইড্রেশনের মাধ্যমে গুঁড়ো দুধ তৈরি করা হয়। বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে কখনো নন - ফ্যাট বা কখনো ফ্যাট যুক্ত গুঁড়ো দুধ তৈরি করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এর ফলে দুধের মধ্যে উদ্বায়ী বা তাপ সংবেদশীল উপকরণগুলো অপসারিত হয়ে যায়।
- গুঁড়ো দুধে ২১টি স্ট্যান্ডার্ড অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিন উপস্থিত। যদিও এই উপকরণগুলোর পরিমাণ নির্ভর করছে কোন ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধ কেনা হচ্ছে তার ওপর। যে কোনো ভালো ব্র্যান্ড তরল দুধ থেকে গুঁড়ো দুধ তৈরির সময় যাতে ডিহাইড্রেশনের ফলে গুণগত মান কমে না যায় তা নিশ্চিত করে।
- গুঁড়ো দুধ যেহেতু ডিহাইড্রেশন বা জল বিয়োজনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় তাই অনেকদিন পর্যন্ত (প্রায় ১৮ মাস) একে সংরক্ষণ করা যায়। তাই যাদের ফ্রিজ নেই তাদের জন্য গুঁড়ো দুধ অবশ্যই একটি ভালো অপশন।
- কিন্তু ফ্লেভার বা স্বাদের দিক দিয়ে গুঁড়ো দুধের থেকে অনেকখানি এগিয়ে আছে ফ্রেশ তরল দুধ। ডিহাইড্রেশনের ফলে গুঁড়ো দুধ তার স্বাদ বা টেস্ট প্রোফাইল অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। এছাড়া তরল দুধের মধ্যে অতিরিক্ত কিছু বায়ো - অ্যাক্টিভ উপকরণ আছে যা গুঁড়ো দুধে থাকে না। যেমন B5 এবং B12 ভিটামিন, ফসফরাস ও সেলেনিয়াম গুঁড়ো দুধের তুলনায় তরল দুধে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া বিভিন্ন উৎসেচকের কাজেও সহায়তা করে এই উপকরণগুলো।
- তরল দুধের মধ্যে প্রায় ৮৭% জল, ৪% ফ্যাট, এবং ৯% প্রোটিন ও ল্যাকটোজ মিনারেল থাকে[1]।
- অনেকের মতে গুঁড়ো দুধ প্রস্তুত করার সময় দুধের মধ্যে যে কোলেস্টেরল থাকে তা অক্সিডাইসড হয় যা শরীরের জন্য বিশেষত হার্টের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকারক। কিন্তু নন - ফ্যাট মিল্ক পাউডার বা গুঁড়ো দুধের ক্ষেত্রে এই অসুবিধা থাকে না যেহেতু এই দুধ কোলেস্টেরলবিহীন তরল দুধ ডিহাইড্রেশনের মাধ্যমে তৈরি হয়[

0 Comments